Kulaura Times logo without water mark
Loading ...

কুলাঊড়া আমার যৌবনের শহর – আহবাব চৌধুরী খোকন

📰 সম্পাদকীয়
🗓️৩রা ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৭:৪৫ মিনিট

কুলাঊড়া বাংলাদেশের সসমৃদ্ধতম উপজেলার মধ্যে অন্যতম । ইতিহাস ঘেটে যতটুকু জানা যায় পরগণা ভিত্তিক বৃটিশ শাসন আমল থেকে এই উপজেলা ঐতিহাসিক কারণে পুরো উপমহাদেশে বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে । বহু জ্ঞানি গুনি মানুষকে ধারণ করে এই উপজেলা পুরো দেশকে করেছে সমৃদ্ধ। শাহা হেলিম উদ্দিন কোরেশী নামক গ্রন্থ থেকে জানা যায় উপজেলার মনসুর গ্রামের বিশিষ্ট জমিদার দেওয়ান মামন্দ মনসুরের ভ্রাতা মামন্তদ কুলাঅর তরুন বয়সে মৃত্যু বরণ করলে দেওয়ান মামন্দ ভাইয়ের স্মৃতি রক্ষার্থে নিজ জমিদারির পূর্বাংশে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করে নাম রেখেছিলেন কুলঅরার বাজার।কাল ক্রমে এই “কুলঅরার বাজারই এখন দেশের নন্দিত উপজেলা কুলাঊড়া । আমার জন্ম স্থান সিলেটের ফেঞ্চুগন্জ হলেও সৌভাগ্য হয়েছে জীবনের দীর্ঘ একটা সময় কুলাউড়ার মানুষের সহচার্য লাভের ।সময়টা ছিল নব্বই এর দশক । ১৯৮৬ সালে কুলাঊড়া কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিলো স্কুলাঊড়ার জীবন এবং শেষ হয় ১৯৯০ -১৯৯১ সালে একই কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করে ।তারণ্যের স্বর্ণালী সময় এই উপজেলার কেঠেছে বলে সেই সময়ের বহু স্মৃতি আজও আমার হৃদয়কে নাড়া দেয়। সেই সময় কুলাঊড়ার রাজনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেকে এতটা জড়িয়ে ফেলেছিলাম যে সেখানকার লোকজন তখন অনেকেই ভাব তেন আমি বুধহয় জন্মগত ভাবে কুলাউড়িয়ান। দীর্ঘ পাঁচ বছরের অম্লমধুর স্মৃতি এখনও আমায় পিছু ডাকে। মনে পড়ে আমার ভগ্নিপতি মরহুম আকমল খানের কথা ।তিনি এক সময় আমাকে জোর করে নিয়ে গিয়েছিলেন কুলাঊড়া ।এসএসসি পাশ করার পর আমি মদন মোহন কলেজে ভর্তি হলেও উনার জন্য থাকতে পারিনি এই কলেজে। আবার এইচ এস সি পাশ করে আমি ফেঞ্চুগন্জ কলেজে ভর্তি হলেও উনার জন্য থাকা হয়নি ফেঞ্চুগন্জ।আবার টিসি নিয়ে ফিরে আসতে হয় কুলাঊড়া ।তিনি কুলাঊড়া কলেজে অধ্যাপনা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন বলে শহরের সিভিল সোসাইটির সাথে ছিলো তাঁর উটা বসা। ফলে সে সময় অনেক রাজনীতিবিদ, শিক্ষক,ব্যবসায়ী ও বিদগ্ধ জনের সাাথে আমার গড়ে উটে ছিলো সম্পর্ক ।কিন্তু এবার দেড় যুগ পর কুলাঊড়ায় যখন ফিরে এলাম তখন কুলাউড়ার সেই সময়ের অনেক প্রিয়জনেরা বেঁচে নেই এই ইহজগতে । প্রিয়জন ও প্রিয় স্বজনদের অনুপস্থিতি ধারুন ভাবে ব্যতিত করেছে আমাকে । নেই কুলাঊড়া কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ইউছুফ আলী, প্রাক্তন অধ্যক্ষ এম এ গনি, মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ, অধ্যাপক আকমল থান, প্রধান শিক্ষক সফাত উদ্দিন, শিক্ষক রাধা শ্যাম রায় ছন্দন, শিক্ষক ননী গোপাল মিত্র, অধ্যাপিকা ফরিদা বেগম, অধ্যাপিকা মাহবুবা রহমান, অধ্যাপক জাফর আলী, অধ্যাপক আক্রাম আলী, অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, রাজনীতিবিদ আব্দুল জব্বার , নবাব আলী ইয়র খান, এডভোকেট আতাউর রহমান, এডভোকেট আব্দুল খালিক, দরস আলী, ইয়াকুব আলী চেয়ারম্যান ,আব্দুল মালেক, আব্দুল কুদ্দুস খছরু, আব্দুল মুকিত চৌধুরী সাইফুল,সোহেল আহমদ,ব্যবসায়ী চম্পা ভাই, নাজিম উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।প্রিয় কুলাঊড়া কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা হয়েছিলো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হান্নান ভাইয়ের (আব্দুল হান্নান) সাথে । দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় পরম মমতায় বুকে ঠেনে নিয়ে কলেজে আরেকদিন যাওয়ার দাওয়াত দিয়ে ঠিক এক দিন পর তিনিও পাড়ী জমালেন অজানার পথে। তবে কুলাউড়ায় গিয়ে চোঁখে পড়লো অনেক পরিবর্তন। স্কুল চৌমুহনী থেকে শুরু করে দক্ষিণ বাজার, উত্তর বাজার, রেল ক্রসিং, মনসুর , রবিরবাজার , ব্রাম্মনবাজার ,ভাঠেরা, বরমচাল সর্বত্র গড়ে উটা বহুতল ভবন পুরো উপজেলার চেহারা বদলে দিয়েছে।রেল চৌমুহনী সড়কের যে বিশাল বটগাছটির নিছে এক সময় প্রতিদিন বসত কাঁচা বাজার এখন তার চারপাশে গড়ে উটেছে নামি দামি ব্রান্ডের বিপনি বিতান এবং দেশি বিদেশী খাবারের রেষ্টেরেন্ট ।ডিলাইট ডাইনিং নামেএকটি রেষ্টেরেন্টে প্রবেশ করে পিলে চমকানোর মত অবস্থা । রেষ্টুরেন্টের ইন্টারিয়র ও আউটডোর ডেকরেশন দেখে মনে হয়েছে আমি চলে এসেছি ইউরোপে আমেরিকায়্।খাবার যেমন মানসম্পন্ন তেমনি পরিবেশোও পাশ্চাত্ত্য স্টাইলে।ঐতিহাসিক ডাক বাংলোর অবকাটামো তে ও লেগেছে পরিবর্তনের ছোয়া । প্রিয় কিছু মানুষের সাথে দেখা হলো।তিন যুগ পর।তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অধ্যাপক আব্দুর রকিব, নবাব আলী আব্বাস খান, এডভোকেট মায়ুন খাঁন, মেয়র জুনেদ আহমদ, বদরুজ্জামান সজল, রেদওয়ান খান, সিফার উদ্দিন আমদ, শাকিল রসিদ চৌধুরী, শিরিন চৌধুরী মুন্নি, আব্দুল মুহিত সোহেল , জুনেল আহমদ , বাপ্পি খান ও শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন । বহুদিন পর দেখা হলো কলেজ জীবনের সহপাঠী সফিকুর রহমানের সাথে আর মিস করেছি সুলেমান চৌধুরী,শাহাবুদ্দীন খালেদ, আলমগীর কবির শামীম, সাইদুর রহমান সদরু, সজিবুর রহমান ও ফলুরর রহমান প্রমুখকে যারা জীবন ও জীবিকার তাগিদে এখন দেশে থেকে যোজন যোজন দুরে । ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি কুলাঊড়া উপজেলা ও কলেজ ছাত্রদল নেতৃবৃন্দকে যারা আমার সম্মানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমাকে কুলাঊড়ায় যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন ।ধন্যবাদ জানাচ্ছি স্নেহাস্পদ ফজলে আবিদ রাবি ,সুফিয়ান আহমদ এবং বন্ধুবর সোলেমান, সদরু খালেদ ও সজিবকে যারা এই অনুষ্ঠানে আয়োজনে উদ্যোগ নিয়েছেন । ৫৪৫.৪৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিস্থৃত কুলাঊড়া উপজেলা দেশের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। এই উপজেলায় ২২ চা বাগান, ১২টি জলমহাল এবং ৩০টি পুঞ্জি পর্যটক আকর্ষনে অনন্য স্থান দখন করে আছে। কুলাউড়ায় অবস্থিত রেলওয়ে জংশন স্টেশন এক সময় পুরো উপমহাদেশে রেলওয়ে স্টেশন গুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। কুলাঊড়ায় অবস্থিত পৃথিমপাশা জমিদার বাড়িতে প্রাচীন আমলের অনেক নিদর্শন রয়েছে। আমার তারণ্যের শহর কুলাঊড়াকে ঘিরে অনেক স্মরণীয় স্মৃতি রয়েছে যা সাম্প্রতিক সফরে মনে পড়ে গেলো। কুলাঊড়ার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *